আপনার যে কোন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন!01958666697 তথ্য বহুল ইসলামিক সব আলোচনা পেতে আমাদের সাথেই থাকুন! ভর্তি চলছে, ক্বারী ইয়াকুব আলী রহ. ইসলামিয়া মাদরাসা,যোগাযোগ:01609216916 🧬 জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ নতুন বিপ্লব শুরু হতে যাচ্ছে...

গণঅভ্যুত্থান নামে পরবর্তী বাংলাদেশের অবস্থা, ক্ষমতার লড়াই বনাম জনস্বার্থ।



অভ্যুত্থান, গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লব: ক্ষমতার লড়াই বনাম জনস্বার্থ

অভ্যুত্থান ও গণঅভ্যুত্থানের কি!

'অভি' এবং 'উত্থান'—এই দুইয়ের সন্ধিতে গঠিত হয় 'অভ্যুত্থান'। ইতিহাসের পাতায় এই উত্থান-পতনের নেপথ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই থাকে ক্ষমতার লড়াই। তবে যখন এই আন্দোলন কোনো জাতির উন্নতি এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত হয় এবং যেখানে সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকে, তখন তা ক্রমশ 'গণজাগরণে' রূপ নেয়। এই অবস্থায় একে বলা হয় গণঅভ্যুত্থান। একটি প্রকৃত গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর পক্ষে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থে পরিচালিত হয়।

বিপ্লব বনাম সমসাময়িক বাস্তবতা

বিপ্লব একটি সুদূরপ্রসারী প্রক্রিয়া। ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের শুরুটা বিপ্লবের চেতনা নিয়ে হয়েছিল, যেখানে সাধারণ মানুষের আবেগ ও অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটকে এখনই পূর্ণাঙ্গ 'বিপ্লব' বা 'গণঅভ্যুত্থান' বলা কঠিন। একে বরং বলা যেতে পারে 'গণতান্ত্রিক ভয়ঙ্কর সৌন্দর্য', যা পৃথিবীর অনেক দেশেই দেখা গেছে। এই আন্দোলনের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করবে বর্তমান সরকারের স্থায়িত্বকাল, ব্যর্থতা এড়ানোর সক্ষমতা এবং জনস্বার্থ রক্ষার ওপর।

​বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

​আমাদের দেশের অতীতের সরকার পরিবর্তনের চিত্রগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেশ ও জনগণের স্বার্থে ছিল না। বরং সেগুলো ছিল ক্ষমতার লড়াই এবং অশুভ চক্রের নেতৃত্ব দখলের কৌশলগত অধ্যায়।

  • ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান: এটি ছিল একটি সফল এবং বাস্তব গণঅভ্যুত্থান। ছাত্র-রাজনীতিক থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমিক এবং সরকারি চাকুরিজীবী—সব স্তরের মানুষ এতে অংশ নিয়েছিল। এটিই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম মাইলফলক।
  • ১৯৭৫-এর রক্তক্ষয়ী অধ্যায়: ১৫ই আগস্ট রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের পতন ও হত্যাকাণ্ড, ৩রা নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থান এবং ৭ই নভেম্বর কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান—এই সব ঘটনাই ছিল মূলত সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব।
  • জিয়া ও এরশাদ আমল: ১৯৭৭ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে জিয়াউর রহমানকে ২১টিরও বেশি সংঘাত মোকাবিলা করতে হয়েছে। অবশেষে ১৯৮১ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি। এরপর ১৯৮২ সালে এরশাদ নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন।
  • ওয়ান-ইলেভেন (১/১১): ২০০৭ সালের রাজনৈতিক সংকট এবং পরবর্তী আওয়ামী শাসনামলের দীর্ঘ সময়—সবগুলোই ক্ষমতার লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা।

২০২৪-এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চেতনা কি শেষ পর্যন্ত সফল 'গণঅভ্যুত্থান' হিসেবে স্বীকৃতি পাবে? এর উত্তর লুকিয়ে ছিলো সময়ের গর্ভে। যা এখন অতীত হয়েছে, ইউনুস গংদের লুটপাট, নৈরাজ্য,মবকাণ্ডে প্রমাণিত ২৪ সালের ৫ অগাস্ট এটা কোন গণঅভ্যুত্থান তো নয়ই বরং এটা ছিলো বিশেষ কিছু জনগোষ্ঠীর অনৈতিক স্বার্থকতা। যারা মানুষের আবেগকে পূঁজি করে নিজের পকেট ভারী করেছে,দেশ রক্ষার চেতনার নামে বিদেশী প্রভুদের কাছে দেশকে সওদা করেছে। দেশের অর্থনৈতিক সূচকের পতন করেছে,রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস করে পুরো বিশ্বে মাতৃভূমির রিপিটেশন খারাপ করেছে।

দুকএকজন ছাড়া ইউনুস গংদের উপদেষ্টা পরিষদ ছিলো অযোগ্য, দক্ষ, আনাড়ি। ফলে এদের থেকে জনগণ এবং রাষ্ট্র কোন সুফল পায়নি। বরং এদের ছত্রছায়ায় দেশ পরবর্তীতে আরো একটি ভয়ংকর ক্ষমতালোভী, চাঁদাবাজ,দূর্নীতিবাজদের অধীনে চলছে।

সুতরাং ২৪ এর ৫ই অগাস্ট এটা কোন গণঅভ্যুত্থান নয় বরং এনজিও সুবিধাভোগী কিছু জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে দেশ বিরোধী একটা আন্দোলন ছিলো। যা ইতিহাসের আরেকটি ক্ষমতার পালাবদল হিসেবেই গণ্য হবে।

আজাদী কি তবে ওয়াশিংটনের কাছে বন্ধক?
"দিল্লি না ঢাকা?"—এই গগনবিদারী স্লোগানে যারা আকাশ বাতাস কাঁপিয়েছিল, আজ তারা ক্ষমতার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে নির্বাক। দূতাবাস ঘেরাও আর ইট খুলে ফেলার হুঙ্কার ছিল কি তবে স্রেফ আমজনতাকে বিভ্রান্ত করার সস্তা স্টান্ট? সেই 'আজাদী'র তর্জন-গর্জন আজ 'গোলামী'র নীরবতায় পর্যবসিত। সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলে একদল অর্বাচীন আজ নিজেদের আখের গুছিয়ে নিয়েছে।
উচ্চশিক্ষিত 'ইবলিশ' ও সিস্টেমের মরণকামড়
বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাধিক শিক্ষিত মানুষেরা ইউনূসের অবৈধ সরকারের স্টেক হোল্ডার ছিল।
বলা হয়েছিল, শিক্ষিত আর অরাজনৈতিক যুবসমাজ দেশটাকে স্বর্গে রূপান্তর করবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা কী দেখলাম? ইতিহাসের সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষগুলো যখন ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়, তখন তারা ইবলিশের চেয়েও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে।
ড. ইউনূসের এই সরকার প্রমাণ করেছে যে, দেশপ্রেমহীন তথাকথিত "শিক্ষিত" সমাজ রাষ্ট্রকে সেবা নয়, বরং রাষ্ট্রকে গিলে খেতে আসে।
সার্বভৌমত্বের নিলাম ও মার্কিন এজেন্ডা
একটি তথাকথিত অভ্যুত্থান নামে যাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ড. ইউনূস পুরো দেশটাকে ওয়াশিংটনের ড্রয়িং রুমে সওদা করে দিয়েছেন। যা ছিল গণমানুষের ক্ষোভ, তাকে সুনিপুণভাবে মার্কিন অ্যাক্টিভিজমে রূপান্তর করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্বকে বিদেশের কাছে লিজ দিয়ে আজ তারা নিজেদের পকেট ভারী করেছে।
অরাজনৈতিক মুখোশে নজিরবিহীন লুটপাট
অরাজনৈতিক ব্যক্তিরা যখন দেশ চালায় এবং তাদের অন্তরে দেশের মানুষের প্রতি মায়া থাকে না, তখন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কী করুণ দশা হয়—তা বর্তমান হাহাকারই বলে দিচ্ছে।
সিস্টেমের ধ্বংসযজ্ঞ: প্রশাসনের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে অস্থিরতা।
লুটপাটের রাজত্ব: জনকল্যাণের নামে চলছে নজিরবিহীন হরিলুট।
প্রতারণার রাজনীতি: মিথ্যুক, ভণ্ড আর প্রতারক আত্মারা আজ দেশের প্রতিনিধি সেজে বসে জাতির ভাগ্য নিয়ে তামাশা করছে।
ইতিহাসের পাতায় গাদ্দারির স্বাক্ষর
সময় বয়ে যায়, কিন্তু ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। এই অর্বাচীন আর অতৃপ্ত আত্মারা যতই দম্ভ দেখিয়েছে ওদের মাথা ততোটাই অবনিত হয়ে গেছে। ইতিহাসের মহাকাব্যে এদের নাম সোনার অক্ষরে নয়, বরং ‘গাদ্দার’ হিসেবে ঘৃণ্য কালিতে লেখা থাকবে।তাদের শেষ ঠিকানা হবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়।
এদের ইতিহাস যেভাবেই লিখিত হোক সেখানে তাদের নাম গাদ্দার হিসেবেই লিখিত হবে,
অভ্যুত্থান নামে যা হয়েছে তা কেবল মার্কিন এক্টিভিস্টিং হিসেবে কাজ করেছে,নিজের পকেট ভারী করেছে। মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করেছে।

দ্রঃ নিচে দেওয়া হলো।

 (USAID) থেকে ২৯ মিলিয়ন ডলারের একটি অনুদান "স্ট্রেংদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ ইন বাংলাদেশ" (SPL) প্রকল্পের আওতায় একটি অপরিচিত সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে এবং এই অর্থ বাংলাদেশ কমিউনিস্ট এবং বামপন্থী রাজনৈতিক দলের জন্য সুপারিশ ছিলো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ